WebNovels

Chapter 1 - part-1সাগরের শেষ ট্রেন

⚠️ এই গল্পটি দুর্বল হৃদয়ের মানুষদের জন্য নয়…

আমি সাগর, আর আজ তোমরা শুনতে চলেছো এক রহস্যময় ও ভয়ংকর ঘটনা।

এই গল্পে আছে গভীর রাত, নির্জন রেল স্টেশন,

আর এমন একটি ট্রেন… যা সবাই দেখতে পায় না।

লোকজন বলে, রাত ১২:৪৫-এ শিবতলা স্টেশনে একটি অদৃশ্য ট্রেন আসে।

যারা সেই ট্রেনের ডাক শোনে… তারা আর আগের মতো থাকে না।

অন্ধকারে, একা বসে এই গল্প শুনলে ভয়টা আরও বেশি অনুভব করবে…

চল শুরু করা যাক — আজকের গল্প:

~ ("সাগরের শেষ ট্রেন" 👻🚆)~

পর্ব ১: (নির্জন স্টেশন)👻🚆

রাত সাড়ে বারোটা। শিবতলা স্টেশন একদম ফাঁকা।

সাগর শেষ ট্রেনের জন্য প্ল্যাটফর্মে একা বসে ছিল।

চারদিকে শুধু নীরবতা আর ঠান্ডা বাতাস।

হঠাৎ সে দেখতে পেল, প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে একজন দাঁড়িয়ে আছে।

অন্ধকারে মুখটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।

সাগর কাছে যেতে শুরু করল।

ঠিক তখনই দূরে ট্রেনের হুইসেলের শব্দ শোনা গেল।

সে পিছনে তাকাল… কিন্তু লাইনে কোনো ট্রেন নেই।

আবার সামনে তাকিয়ে দেখল—

সেখানে কেউ নেই!

কিন্তু কানে ভেসে এলো একটি ফিসফিস শব্দ—

"সাগর… শেষ ট্রেন এসে গেছে…"

পর্ব ২: (অদৃশ্য ডাক)☠️☠️

পরের রাতেও সাগর আবার স্টেশনে গেল।

রাত ঠিক ১২:৪৫।

স্টেশনের পুরোনো ঘড়ি হঠাৎ নিজে নিজে চলতে শুরু করল।

হঠাৎ প্ল্যাটফর্মের আলো টিমটিম করতে লাগল।

সাগর দেখতে পেল—

দূরে একটা ছায়া তাকে হাত নেড়ে ডাকছে।

ঠিক তখনই লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেনের শব্দ শুরু হলো।

শব্দটা কাছে আসছে… কিন্তু কোনো ট্রেন দেখা যাচ্ছে না!

ফিসফিস করে আবার সেই কণ্ঠ—

"সাগর… এদিকে আসো…"

ভয় পেলেও সাগর ধীরে ধীরে লাইনের দিকে এগোতে লাগল।

পর্ব ৩: (শেষ রহস্য)🤐😲🤯

পরদিন সকালে স্টেশনের বৃদ্ধ দারোয়ান বলল—

"এই স্টেশনে ১৫ বছর আগে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা হয়েছিল।

সেই রাতেও সময় ছিল ১২:৪৫।

তারপর থেকে প্রতি রাতে ওই সময় অদৃশ্য ট্রেনের শব্দ শোনা যায়।"

লোকজন বলে—

যদি কেউ সেই সময় প্ল্যাটফর্মে থাকে,

তাহলে অদৃশ্য সেই ট্রেন তাকে নিয়ে যায়…

আর সে আর কখনো ফিরে আসে না।

সেদিনের পর থেকে—

সাগরকেও আর কেউ খুঁজে পায়নি।

শেষ… নাকি অদৃশ্য ট্রেন এখনো আসে?

পর্ব ৪: (ফিরে আসার চেষ্টা)👻👻

সাগর হারিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পর, গ্রামের লোকজন স্টেশনের আশেপাশে অদ্ভুত ঘটনা লক্ষ্য করতে শুরু করল।

প্রতি রাত ১২:৪৫-এ শিবতলা স্টেশনের দিক থেকে ট্রেনের শব্দ শোনা যায়।

একদিন স্টেশনের বৃদ্ধ দারোয়ান সাহস করে ওই সময় প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকল।

রাত ঠিক ১২:৪৫।

হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করল।

স্টেশনের আলো টিমটিম করতে লাগল।

তারপর…

প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে সে দেখতে পেল—

সাগর দাঁড়িয়ে আছে!

সাগরের মুখ ফ্যাকাশে, চোখ দুটো ফাঁকা।

সে ধীরে ধীরে হাত তুলে ইশারা করল।

বৃদ্ধ ভয় পেয়ে বলল,

"সাগর! তুই বেঁচে আছিস?"

সাগর ধীরে বলল—

"আমি ফিরতে চাই… কিন্তু ট্রেনটা আমাকে যেতে দিচ্ছে না…"

ঠিক তখনই আবার সেই অদৃশ্য ট্রেনের শব্দ শোনা গেল।

হঠাৎ সাগরের শরীরটা কুয়াশার মতো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগল।

মিলিয়ে যাওয়ার আগে সে শুধু বলল—

"রাত ১২:৪৫… কাউকে এখানে আসতে দিও না…"

সেদিনের পর থেকে স্টেশনে একটি বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হলো..

⚠️ রাত ১২টার পর প্ল্যাটফর্মে থাকা নিষেধ

কিন্তু লোকজন বলে—

কখনো কখনো গভীর রাতে এখনও শোনা যায়—

"বাঁচাও… আমি ফিরতে চাই…"

পর্ব ৫: শেষ মুক্তি (শেষ পর্ব)

সাগরের কথা শোনার পর গ্রামের লোকজন খুব ভয় পেয়ে গেল।

বৃদ্ধ দারোয়ান সবাইকে বলল—

"সাগরকে যদি মুক্ত করতে হয়, তাহলে ওই রাতেই তাকে সাহায্য করতে হবে।"

পরের রাত।

সময় — ১২:৪৫

কয়েকজন সাহসী মানুষ স্টেশনে গেল।

তারা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে সাগরের নাম ধরে ডাকতে লাগল।

হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করল।

চারপাশে কুয়াশা ছড়িয়ে গেল।

তারপর…

দূরে দেখা গেল সাগর দাঁড়িয়ে আছে।

সাগর কষ্টের গলায় বলল—

"ট্রেনটা আসছে… আমাকে নিয়ে যেতে চায়…"

ঠিক তখনই অদৃশ্য ট্রেনের শব্দ কাছে আসতে লাগল।

বৃদ্ধ দারোয়ান জোরে বলল—

"সাগর! লাইনের দিকে যাস না! ফিরে আয়!"

সাগর ধীরে ধীরে তাদের দিকে হাঁটতে শুরু করল।

হঠাৎ চারপাশের কুয়াশা কাঁপতে লাগল…

ট্রেনের শব্দ ধীরে ধীরে দূরে সরে গেল।

এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু শান্ত।

সাগর মাটিতে পড়ে গেল।

লোকজন দৌড়ে গিয়ে তাকে তুলে নিল।

সেদিনের পর থেকে—

আর কখনো শিবতলা স্টেশনে রাত ১২:৪৫-এ ট্রেনের শব্দ শোনা যায়নি।

কিন্তু স্টেশনের পুরোনো দেয়ালে আজও একটি লেখা আছে—

"শেষ ট্রেন সবাইকে নিয়ে যেতে পারে না… কেউ কেউ ফিরে আসে।"

🌺~~~ (1সমাপ্ত5👻🚆)~~~🌺

More Chapters